শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

দুটি কিডনিই খেয়ে ফেলেছে ফ্যাসিস্ট সরকার

কিডনি মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিডনি সুস্থ না থাকলে মানুষ সুস্থ থাকতে পারে না। কিন্তু কারো যদি কিডনিই না থাকে, তখন তো মৃত্যৃই অবধারিত। বিষয়টি খুবই স্পষ্ট বলেই দেশের সাথে কিডনিকে যুক্ত করেছেন শ্বেতপত্র কমিটির প্রধান ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। গত শনিবার রাজধানীর মহাখালীতে ‘পলিসি ডায়ালগ অন ফিন্যান্সিয়াল, অ্যান্ড ইকোনমিক রিফর্মস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি বলেন, বাংলাদেশের দুটো কিডনি। একটি ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর, আরেকটি এনার্জি সেক্টর। দুটোই খেয়ে ফেলেছে বিগত সরকার। যারা এনার্জি সেক্টর খেয়েছে, তারাই আবার খেয়েছে ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর। মাসোহারা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরে লোক রাখা হয়েছিল মন্তব্য করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, তারা টাকা ছাপিয়েছে, ভুয়া রিজার্ভ দেখিয়েছে। ব্যাংক চালানোর মতো যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তেমন ব্যক্তিকে ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়ে আছি। রাষ্ট্রের মেরামত যদি না হয়, দুই পয়সার সংস্কার করে কোনো লাভ হবে না। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা না গেলে, সংস্কারের পথে এগোনো সম্ভব নয়। 

বেসরকারি বিনিয়োগ ছাড়া প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছে, যেখানে ট্যাক্স জিডিপি বাড়েনি দাবি করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, বিগত সরকারের আমালে প্রবৃদ্ধির তথ্য ও উপাত্তে মারাত্মক সমস্যা ছিল। তথ্যে রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছে। ট্যাক্স নেই, বিনিয়োগ নেই, আর দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখাতে গিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য-শিক্ষার গুরুতর অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

কিডনিবিহীন বাংলাদেশের কথা বললেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে শে^তপত্র তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির প্রধান। তিনি যখন বলেন, দুটো কিডনিই খেয়ে ফেলেছে বিগত সকরার। তখন সহজেই উপলব্ধি করা যায়, বাংলাদেশের ফিন্যান্সিয়াল ও এনার্জি সেক্টরের কী হাল করেছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার। দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে তারা বহু আগেই এবং তারা মানুষকে বোঝাতে চেয়েছে, গণতন্ত্রের আগে উন্নয়ন প্রয়োজন। আর তাদের উন্নয়ন মানে দৃশ্যমান উন্নয়ন, তথা ব্রীজ আর উড়াল সেতুর উন্নয়ন। এসব দেখাতে গিয়ে তারা দেশের সামাজিক উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের উন্নয়নকে করেছে অবমূল্যায়ন। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার আসলে দেশের মানুষের সাথে শুধু অভিনয়ই করেনি, করেছে প্রতারণাও। বিগত সরকার প্রবৃদ্ধির বেলুন উড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছে, কিন্তু প্রবৃদ্ধির সুফল বঞ্চিত ছাত্র-জনতা সেই প্রোপাগান্ডায় আস্থা রাখেনি। তাইতো তাদের রাজপথে আন্দোলন, অভ্যুত্থান এবং বিপ্লব। বিপ্লবের চেতনায় আমাদের সামনে এগোতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ